নিজস্ব প্রতিবেদক : তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি, বিশ্ব ইজতেমার জুমার নামাজের ইমাম এবং কাকরাইল মসজিদের আহলে শূরা হজরত মাওলানা মোশাররফ হোসেন (রহ.) মারা গেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) শনিবার (৩০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর শ্যামলীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি কুড়িগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মোশারফ হোসেন কিছুদিন ধরে কিডনি রোগে জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন এবং শেষ দুই দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাওলানা মোশাররফ হোসেনকে তাবলিগ জামাতের বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের অনেক দেশে ভ্রমণকারী এবং বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে জুমার নামাজের ইমামতি করার মাধ্যমে মুসল্লিদের আধ্যাত্মিক দিকনির্দেশনা প্রদানে পরিচিত ছিলেন। প্রতি ইজতেমায় তিনি আসর ও ফজরের নামাজের পরে মূল বয়ান করতেন। তাবলিগ জামাতের নিয়ম অনুযায়ী, কাকরাইল মসজিদের শূরা সদস্য ইন্তেকাল করলে তার দাফন টঙ্গী ময়দানের কবরস্থানে করা হয়। মৃত্যুর আগে তার শেষ ইচ্ছা ছিল টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের কবরস্থানে দাফন হওয়া। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণে বাঁধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা তাবলীগের সাথীদের হতবাক করেছে। এর আগে কাকরাইল মসজিদের আহলে শূরার একাধিক শীর্ষ মুরুব্বি-মাওলানা আব্দুল আজীজ খুলনভী রহ: সহ অনেককে টঙ্গী ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে দাফন করা হয়েছে। সেই নিয়মেই মাওলানা মোশাররফ হোসেনকেও সেখানে দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে তার ছেলে আবু জর বিষয়টি বর্তমান টঙ্গী ময়দান দখলে থাকা অপরপক্ষের মুরুব্বি মাওলানা জুবায়েরের কাছে জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং বাঁধা প্রদান করেন। এতে ক্ষোভ ও হতাশা নেমে আসে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে। এ বিষয়ে তাবলীগ জামাতের শীর্ষ মুরুব্বি সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম বলেন, আমরা এ ঘটনায় গভীরভাবে দুঃখিত ও মর্মাহত। মাওলানা মোশাররফ ছিলেন কাকরাইলের আহলে শূরা সদস্য ও প্রবীণ মুরুব্বি। তার অসংখ্য কুরবানী রয়েছে তাবলীগের খেদমতে। তাকে কবর দিতে বাঁধা দেওয়ার বিষয়টি অমানবিক ও বোধগম্য নয়। মানুষ চলে যাওয়ার পর তার প্রতি হিংসা রাখা নিঃসন্দেহে একটি পাপ। মাওলানা মোশাররফ হোসেনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে তাবলীগের সাথীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তাবলিগ জামাতের মিডিয়া সমন্বয়কারী মো. সায়েম জানান, মাওলানা মোশাররফ সাহেব রহ. এর জানাযা নামাজ এশারের পরে টঙ্গীর ময়দানের বিশ্ব ইজতেমা ময়দান জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মোশাররফ সাহেব রহ: এর ছেলে মাওলানা আবু জর দাবা জানাযার নামাজে হাজার হাজার মুসল্লী শরিক হয়, সারাদিন সরকারের উচ্চ পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা করা সত্ত্বেও জোবায়ের পন্থীদের কঠোর অবস্থানের কারণে টঙ্গীর ময়দানের কবরস্থানে হুজুরকে দাফন করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও মুরব্বিদের অনুমতি সাপেক্ষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবর স্থানে হুজুরের দাফনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম || বার্তা সম্পাদক: শাকিল মাহমুদ শান্ত || টঙ্গী দত্তপাড়া, জহির মার্কেট, টঙ্গী গাজীপুর ঢাকা। E-mail: editorgrambarta@gmail.com যোগাযোগ : ০১৯১১-২৪৫৮৯৫ | ০১৯১৩-৩৪৪৮১৭ | ০১৭৩১-৬১৬২১৫ | ০১৯৭২-৬১৬২১৫