নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ এবং কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত ভর্তুকির কৃষিযন্ত্র যথাযথভাবে বিতরণ না করার অভিযোগে দেশের তিন জেলায় একযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। আজ (০৪ ডিসেম্বর ২০২৫) দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের তত্ত্বাবধানে পৃথক তিনটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করে।
এলজিইডি প্রকল্পে কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ
টুঙ্গীপাড়া উপজেলায় এলজিইডি–এর বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ সম্পন্ন না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে দেখা যায়, ২০২২–২৩ থেকে ২০২৪–২৫ অর্থবছর পর্যন্ত গৃহীত অধিকাংশ প্রকল্পের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পসমূহের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণ শেষে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
মেহেরপুরে জাল সনদে শিক্ষক নিয়োগ ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাল সনদ ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগ এবং ভুয়া ছাত্রছাত্রী দেখিয়ে অতিরিক্ত শাখা খোলার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে কুষ্টিয়ার সমন্বিত জেলা কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে সরেজমিন পরিদর্শন এবং অভিযোগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখা যায়—প্রধান শিক্ষক ও ব্যবস্থাপনা কমিটির কিছু সদস্যের যোগসাজশে মোটা অংকের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদনের কপিও জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যবহার করা হয়েছে এবং একাধিক শিক্ষক জাল সনদ দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। অধিকতর যাচাই শেষে আইনানুগ ব্যবস্থার সুপারিশসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
ভর্তুকির কম্বাইন্ড হারভেস্টার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
কিশোরগঞ্জ জেলায় কৃষকদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত কম্বাইন্ড হারভেস্টার যথাযথভাবে বিতরণ না করার অভিযোগে জেলা কার্যালয়ের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে।
এ সময় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের কার্যালয়, কিশোরগঞ্জ এবং সদর উপজেলা কৃষি অফিস পরিদর্শন করা হয়। অভিযানে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়। প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা শেষে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানানো হয়েছে। দুদক সূত্র জানায়, প্রতিটি অভিযানে সংগৃহীত কাগজপত্র ও প্রাথমিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।