নিজস্ব প্রতিবেদক : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ দীর্ঘ স্থবিরতা ও বন্ধের অন্ধকার পেরিয়ে দেশের চিনি শিল্পে শুরু হয়েছে নতুন সূর্যোদয়। বহুদিন অবহেলা ও অচলাবস্থায় পড়ে থাকা চিনিকলগুলোকে আধুনিকায়ন ও পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার নেওয়া উদ্যোগ বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে ২০২৫–২৬ মৌসুমের ৮৮তম আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। মিল প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশে ঐতিহ্যবাহী ক্যান ক্যারিয়ার বা ডোঙায় আখ নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে শুরু হয় নতুন মৌসুমের আনুষ্ঠানিকতা। উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে মিল এলাকায় ছিল উৎসবমুখর আমেজ। আগে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্প উপদেষ্টা বলেন ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় দেশের বহু কলকারখানা মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। আমরা সেই অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও চিনিকলগুলো সচল করছি। কয়েকটি মিল ইতোমধ্যেই উৎপাদনে ফিরেছে, আরও ফিরবে। তিনি জানান, দর্শনা কেরু মিলকে সম্পূর্ণ আধুনিকায়নের জন্য বিএমআরআই প্রকল্প খুব দ্রুতই চালু হবে। আজই প্রকল্পটি চালু হবে বলে আশা করেছিলাম, তবে কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় একটু বিলম্ব হচ্ছে। খুব শিগগিরই পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী। তিনি আরও বলেন চাষি, কৃষক, অস্থায়ী শ্রমিক সবাইকে সমান গুরুত্ব দিয়ে পাঁচ বছরের বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। আমরা শুধু মিল চালু নয়, উৎপাদন বাড়াতে চাই। আধুনিকায়ন চাই, কৃষক-শ্রমিকদের অধিকারও সুরক্ষিত রাখতে চাই। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রশিদুল হাসান, বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল হক, চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম উদ্বোধনী আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রাব্বিক হাসান। ২০২৫–২৬ মৌসুমে দর্শনা কেরু মিলের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে কার্যদিবস ৬৯ দিন আখ মাড়াই ৭৬,০০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন ৪,২৫৬ মেট্রিক টন চিনি আহরণের হার ৫.০৬% পূর্ববর্তী মৌসুমে (২০২৪–২৫) আখ মাড়াই ৭১,২৩৫ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন ৩,৬৮৫ মেট্রিক টন (লক্ষ্য ৪,২০০ মেট্রিক টন) ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মিলের চিনি উৎপাদন খাতে ৬২ কোটি টাকা লোকসান হলেও, ডিস্টিলারি বিভাগ ১৯০ কোটি টাকা মুনাফা করে সামগ্রিকভাবে মিলকে ১২৯ কোটি টাকা নেট লাভে পৌঁছে দেয় যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃষক, শ্রমিক এবং আখচাষির চোখে ছিল নতুন প্রত্যাশার ঝলক। তাদের ভাষায় কেরু মিল আবার আগের গৌরবে ফিরুক এই আশাই আমাদের। স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন এবং কৃষকবান্ধব নীতির অঙ্গীকার সব মিলিয়ে পুরো দর্শনা অঞ্চলে বইছে নতুন আশার বাতাস।