নিজস্ব প্রতিবেদক : গাজীপুর-৬ সংসদীয় আসন বিলুপ্তির ফলে গাজীপুর-২ আসনের ভৌগোলিক, রাজনৈতিক ও ভোটার বাস্তবতা আমূল পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপির মনোনয়ন পুনর্বিবেচনার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। এই দাবিতে বৃহস্পতিবার গাজীপুরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এই দাবি কোনো ব্যক্তি বা মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়; বরং গাজীপুরবাসীর ভোটাধিকার, দলীয় ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নির্বাচনী সক্ষমতা ও বিজয়ের সম্ভাবনা নিশ্চিত করার স্বার্থে সময়োপযোগী একটি আহ্বান। বক্তারা বলেন, আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের নবগঠিত গাজীপুর-৬ আসন বাতিল হয়ে পূর্বাবস্থায় গাজীপুর-২ আসনে ফিরে এসেছে। এর ফলে গাজীপুর-২ আসনের ভোটার সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৮ লাখে দাঁড়িয়েছে, যা এটিকে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও চ্যালেঞ্জিং সংসদীয় আসনে পরিণত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গাছা থানার ৭টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩০৯ জন এবং পূবাইল থানার আংশিক অংশে (ওয়ার্ড-৩৯) ভোটার ১৩ হাজার ২৮৬ জন। অর্থাৎ গাছা ও পূবাইল মিলিয়ে মোট ভোটার ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৫ জন। অন্যদিকে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার ১৫টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৬৫৯ জন এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানার ১৩টি ওয়ার্ডে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ২০ জন। এর মধ্যে কাউলতিয়া এলাকার ৪টি ওয়ার্ডে ভোটার মাত্র ৭৩ হাজার ৭৩৮ জন। বক্তারা বলেন, এসব তথ্য স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে গাজীপুর-২ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল এলাকায় অবস্থান করছেন। অথচ বর্তমান বিএনপি মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল ভিন্ন একটি বাস্তবতায়, যখন গাজীপুর-৬ আসন বহাল ছিল এবং এই এলাকাগুলো আলাদা সংসদীয় আসনের আওতায় ছিল। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমান পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনে মনোনীত প্রার্থীর বাড়ি কাউলতিয়া এলাকায়, যা এই বৃহৎ আসনের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এবং তুলনামূলকভাবে কম ভোটার অধ্যুষিত এলাকা। বক্তারা স্পষ্ট করেন, তারা মনোনীত প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা বা রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলছেন না; বরং প্রশ্ন তুলছেন ভোটার বাস্তবতা, ভৌগোলিক ভারসাম্য ও নির্বাচনী কার্যকারিতা নিয়ে। বক্তারা আরও বলেন, টঙ্গী, গাছা ও পূবাইল একটি অভিন্ন নগর বাস্তবতার অংশ। গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের আগে গাছা ও পূবাইল ইউনিয়ন বিলুপ্ত হয়ে টঙ্গী পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চল একই সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধারায় পরিচালিত হয়ে আসছে। অতীতেও গাজীপুর-২ আসনে নেতৃত্ব মূলত টঙ্গীকেন্দ্রিক ছিল এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকেই এখানকার প্রতিনিধিরাই নির্বাচিত হয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগী নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই এলাকার অসংখ্য বিএনপি নেতাকর্মী নির্যাতন, মামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। অনেকে পরিবার-পরিজন ছেড়ে দীর্ঘদিন পলাতক জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেই মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এ সময় ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সালাহ উদ্দিন সরকার এবং একই বছরের গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের নির্বাচন প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, তৎকালীন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্র দখলের মাধ্যমে তাঁদের নিশ্চিত বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের প্রতি বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, পুনর্গঠিত গাজীপুর-২ আসনের বর্তমান ভোটার ও ভৌগোলিক বাস্তবতা পূর্ণাঙ্গভাবে বিবেচনা করে মনোনয়ন পুনর্মূল্যায়ন করা হোক। প্রয়োজনে বিকল্প প্রার্থী যাচাই-বাছাই করে এমন একজন প্রার্থী মনোনীত করার দাবি জানানো হয়, যিনি এই বৃহৎ ও প্রতিযোগিতামূলক আসনে বিএনপিকে বিজয়ের পথে নিতে সক্ষম হবেন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্যমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তুলে ধরেণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম || বার্তা সম্পাদক: শাকিল মাহমুদ শান্ত || টঙ্গী দত্তপাড়া, জহির মার্কেট, টঙ্গী গাজীপুর ঢাকা। E-mail: editorgrambarta@gmail.com যোগাযোগ : ০১৯১১-২৪৫৮৯৫ | ০১৯১৩-৩৪৪৮১৭ | ০১৭৩১-৬১৬২১৫ | ০১৯৭২-৬১৬২১৫