নিজস্ব প্রতিবেদক : রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাকে দাফন করা হয়। দাফনকালে রাষ্ট্রীয় নিয়ম অনুযায়ী তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ। বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ নিজ হাতে কবরে নামান তার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা একে একে কবরের মাটি দেন। আবেগঘন পরিবেশে শেষ বিদায় জানান স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা। এর আগে বুধবার বিকাল সোয়া ৪টার দিকে খালেদা জিয়ার মরদেহবাহী গাড়ি জিয়া উদ্যানে পৌঁছায়। সেখানে ফ্রিজার ভ্যান থেকে মরদেহ নামিয়ে একটি ভ্যানে করে সমাধি চত্বরে নেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরও আগে দুপুর ৩টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজে ইমামতি করেন। জানাজায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লাখো মানুষ অংশ নেয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা, তিন বাহিনীর প্রধান, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, চীন, ইরান, কাতারসহ মোট ৩২টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনৈতিক প্রতিনিধি জানাজায় অংশ নেন। জানাজা শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তারেক রহমান তার মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। এর আগে সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খালেদা জিয়ার মরদেহ নেওয়া হয়। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী লাল-সবুজ জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহ সেখানে আনা হয়। বেলা ১১টার দিকে গুলশানে তারেক রহমানের বাসা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ বহনকারী ফ্রিজার ভ্যান মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। তার আগে সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে মরদেহ গুলশানে নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার ভোর ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনি ও ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোক।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম || বার্তা সম্পাদক: শাকিল মাহমুদ শান্ত || টঙ্গী দত্তপাড়া, জহির মার্কেট, টঙ্গী গাজীপুর ঢাকা। E-mail: editorgrambarta@gmail.com যোগাযোগ : ০১৯১১-২৪৫৮৯৫ | ০১৯১৩-৩৪৪৮১৭ | ০১৭৩১-৬১৬২১৫ | ০১৯৭২-৬১৬২১৫