নিউজ ডেক্স : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনটি পৃথক অভিযোগের বিষয়ে একযোগে এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে উন্নয়ন প্রকল্প, সরকারি সেবা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান–১: নদীভাঙন রোধ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলায় নদীভাঙন রোধে গৃহীত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, জামালপুর একটি এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে এনফোর্সমেন্ট টিম পানি উন্নয়ন বোর্ড, জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে মাদারগঞ্জ উপজেলার পাকেরদহ ও বালিজুরি এলাকার প্রায় ৬.৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। এ সময় প্লেসিং ও ডাম্পিং কাজে ব্যবহৃত সিসি ব্লক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত রেকর্ডপত্র ও নমুনা বিশ্লেষণ শেষে কমিশন বরাবর বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযান–২: বিআরটিএ কার্যালয়ে হয়রানি ও ঘুসের প্রাথমিক সত্যতা রংপুর জেলার বিআরটিএ কার্যালয়ে গাড়ির ফিটনেস সনদ, রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানে হয়রানি ও ঘুস গ্রহণের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, রংপুর অভিযান পরিচালনা করে। এনফোর্সমেন্ট টিম ছদ্মবেশে কার্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনে বিকাশ লেনদেন যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাইকালে কয়েকজন কর্মচারীর বিকাশ হিসাবে অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন পাওয়া যায়। এতে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা প্রতীয়মান হওয়ায় এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে।
অভিযান–৩: উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও জনবল সংকট হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে হয়রানি ও অনিয়মের অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, হবিগঞ্জ একটি অভিযান পরিচালনা করে।অভিযানকালে দুইজন চিকিৎসককে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। রোগীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের চার্ট, হাসপাতালের ওয়াশরুম ও টয়লেটের পরিচ্ছন্নতার অবস্থা যাচাই করা হয়। এছাড়া ল্যাবে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ও এমটি (রেডিওলজি) পদ শূন্য থাকায় বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। ল্যাব পরীক্ষার ফি আদায়ের ক্ষেত্রে ভাউচার বা রশিদ না দিয়ে কেবল রেজিস্ট্রারে এন্ট্রি দেওয়ার বিষয়টিও লক্ষ্য করা হয়। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে যথাযথভাবে রশিদ প্রদানের নির্দেশনা দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়। অভিযানে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কমিশনে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে দুদকের এই ধারাবাহিক অভিযান স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।