নিজস্ব প্রতিবেদক : চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সেনা হেফাজতে নিহত জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (বেলা ১১টা) জীবননগর পৌর ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আগামীকাল বৃহস্পতিবার তাকে জীবননগর পৌর কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে তার পরিবার নিশ্চিত করেছে। জানাজায় অংশ নেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি, কেন্দ্রীয় বিএনপির উপ-কোষাধ্যক্ষ, বিজিএমইএর সভাপতি ও রাইজিং গ্রুপের এমডি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরীফসহ বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং হাজারো মানুষ। জানাজায় ইমামতি করেন পৌর জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা রুহুল আমিন। উল্লেখ্য, সোমবার রাতে চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ৩৬ এডি রেজিমেন্ট টিটিসি আর্মি ক্যাম্পের একদল সদস্য জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিকট থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে তার ওষুধের দোকান থেকে আটক করে। পরে তাকে পাশের বিএনপি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবুসহ শত শত নেতাকর্মী হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে জড়িত সেনা সদস্যদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় ৫ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে সুরতহাল রিপোর্টে মরদেহে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। নিহতের পরিবার ও বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, শামসুজ্জামান ডাবলুকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারসহ অভিযানে অংশগ্রহণকারী সকল সেনা সদস্যকে সেনানিবাসে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সেনা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আটককৃত ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং রাত ১২টা ২৫ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর।